মোঃ সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এরই মধ্যে শিল্প উদ্যোক্তা ও জিএইচআই (GHI) গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মীর মোশারফ হোসেনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, ব্যবসা ও শিল্প খাতে কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক-মানবিক উদ্যোগের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁকে নিয়েও আলোচনা রয়েছে।রাজনীতির পথচলায় মানুষের সুখ-দুঃখ ও এলাকার নানা সমস্যা কাছ থেকে দেখেছেন মীর মোশারফ হোসেন। বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি বর্তমানে আনোয়ারা উপজেলা যুবদলের রাজনীতিতেও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি।রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা ও শিল্প খাতেও কাজ করে আসছেন মীর মোশারফ। মার্চেন্ডাইজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে বিজিএমইএর সহযোগী সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন। শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে জিএইচআই (GHI) গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।রাজনীতি ও ব্যবসার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মীর মোশারফ বলেন, রাজনীতির সঙ্গে থাকার কারণে মানুষের খুব কাছ থেকে তাদের সুখ-দুঃখ দেখার সুযোগ হয়েছে। মানুষের কাছে গেলে বোঝা যায়, একটি পরিবারের ছোট একটি সমস্যাও তাদের কাছে কতটা বড় হয়ে দাঁড়ায়। আর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থেকে দেখেছি, একটি প্রতিষ্ঠান শুধু ব্যবসার জায়গা নয়, এর সঙ্গে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান ও পরিবারের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকে। তাই মানুষের কল্যাণ ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে আমি সবসময় গুরুত্ব দিয়ে দেখি।চাতরী ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরে মীর মোশারফ বলেন, চাতরী ইউনিয়ন আমার কাছে শুধু একটি প্রশাসনিক এলাকা নয়, এখানকার মানুষ, মাটি, কৃষি, শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিয়ে আমার আলাদা একটি অনুভূতি রয়েছে। একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন শুধু রাস্তা-ঘাট নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়া, সন্তানদের ভালোভাবে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া, অসুস্থ হলে চিকিৎসা পাওয়া এবং একজন তরুণ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারা-এসবই প্রকৃত উন্নয়নের অংশ।শিক্ষাক্ষেত্রে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একটি এলাকার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার সন্তানদের ভবিষ্যতের ওপর। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো, ঝরে পড়া রোধ করা এবং সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। চাতরীর কোনো সন্তান যেন শুধু অর্থের অভাবে তার স্বপ্ন থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে চাই।স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে মীর মোশারফ বলেন, অসুস্থ মানুষের কাছে চিকিৎসা পাওয়া যেন কোনো বিলাসিতা না হয়। নিম্নআয়ের মানুষ, নারী, শিশু ও প্রবীণদের জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে কীভাবে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।কৃষকদের নিয়ে তিনি বলেন, কৃষক শুধু একজন উৎপাদক নন, তিনি আমাদের খাদ্যের যোগানদাতা। কৃষকের ঘামে একটি পরিবার চলে, একটি এলাকার অর্থনীতি সচল থাকে। তাই কৃষকের উৎপাদন খরচ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বাজারজাতকরণ এবং ন্যায্য মূল্য পাওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। কৃষক যেন তাঁর পরিশ্রমের ন্যায্য সম্মান ও মূল্য পান-এটাই প্রত্যাশা।নতুন প্রজন্মকে ঘিরে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরে মীর মোশারফ বলেন, আজকের তরুণরাই আগামী দিনের চাতরী। তাদের হাতে যদি শিক্ষা, দক্ষতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা তুলে দেওয়া যায়, তাহলে তারাই এলাকার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে। খেলাধুলা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়াতে হবে। তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, আমি চাই তরুণরা শুধু চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের দক্ষতা দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করুক। স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ এবং কর্মমুখী দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া গেলে নতুন প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে যেতে পারে।স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা থাকলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা মূলত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবাকেন্দ্রিক। সড়ক যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, কৃষির উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং তরুণদের জন্য খেলাধুলা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানোর দাবি রয়েছে।স্থানীয়দের মতে, জনপ্রতিনিধির কাছে মানুষের বড় প্রত্যাশা হলো-প্রয়োজনে পাশে থাকা, মানুষের কথা শোনা এবং ইউনিয়ন পরিষদের সেবা সহজ করা। পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
জনপ্রতিনিধিত্ব আমার কাছে কোনো ক্ষমতার বিষয় নয়, এটি মানুষের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়। একজন মানুষ যখন তাঁর সমস্যা নিয়ে জনপ্রতিনিধির কাছে আসবেন, তখন তাঁকে যেন মনে না হয় তিনি কারও কাছে অনুগ্রহ চাইতে এসেছেন। মানুষের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে সেবা নিশ্চিত করাই ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।তিনি বলেন, চাতরীর মানুষ আমাকে যে পরিচয়ে চিনেছেন, সেটিই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। আমি রাজনীতিতে থাকি বা ব্যবসায় থাকি-মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা যেন আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় থাকে, সেটাই চাই। এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ পেলে সেটিকে পদ বা ক্ষমতা হিসেবে নয়, দায়িত্ব হিসেবেই দেখতে চাই।
Leave a Reply